কঠিন সময়ে ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’ নামে একটি মানবিক সংস্থার কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির জাতীয় গণমাধ্যম ‘ফিলিস্তিন টিভি’।
ফিলিস্তিন টিভি তাদের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করে— প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার দূরের একটি ছোট ও নিম্ন-আয়ের দেশ বাংলাদেশ থেকে গাজার মজলুম মানুষের পাশে এভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়া সত্যিই অনন্য ও প্রশংসনীয়। তারা এটিকে মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ববোধ, ভ্রাতৃত্ব এবং মানবিক চেতনার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
ফিলিস্তিনি টিভির খ্যাতিমান সাংবাদিক সালমান আশরাফ, যিনি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েও মাঠে থেকে সত্য তুলে ধরেছেন, শুরুতেই বলেন, বাংলাদেশ থেকে মিশর হয়ে গাজা পর্যন্ত মানবিক কাজে হাফেজ্জীর যে পথচলা, তা অব্যাহত থাকুক। তারা যেভাবে সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, প্যালেস্টাইনবাসী হিসেবে আমরা তার জন্য কৃতজ্ঞ।
১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রচারিত এই বিশেষ প্রতিবেদনটি হাফেজ্জীর চলমান মানবিক কাজের স্বচ্ছতা, সততা এবং বাস্তবভিত্তিক সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি এই গৌরবময় স্বীকৃতি শুধু সংস্থার জন্য নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের জন্যও এক মর্যাদাপূর্ণ অর্জন।
ফিলিস্তিন টিভি নিজ উদ্যোগে হাফেজ্জীর কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠায়। তারা রাফা ও আসওয়ান সীমান্ত হয়ে আগত গাজা ও সুদানের শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে সরাসরি উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে।
এই কার্যক্রমের আওতায় ১০০টি পরিবারকে সহায়তা, প্রতিটি পরিবারকে প্রায় ৫০০০ পাউন্ড করে আর্থিক সহযোগিতা, ইফতার বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজনভিত্তিক নানা সেবামূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে আসে— হাফেজ্জীর কাজ শুধু সীমান্তভিত্তিক নয়; বরং গাজার অভ্যন্তরেও তারা বাস্তব ও ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।
যুদ্ধে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত এক ফিলিস্তিনি নারী ফিলিস্তিন টিভিকে বলেন, হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি কখনো আমাদের ছেড়ে যায়নি। তারা সবসময় আমাদের পাশে থেকেছে। আজও তারা নিজেদের খরচে সীমান্ত এলাকা থেকে আমাদের এনে সহায়তা করছে। আমি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রতিবেদনে হাফেজ্জীর প্রতিনিধিরাও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তারা জানান, ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; বরং ভরসার প্রতীক, মানবিকতার গল্প এবং আন্তরিক সহমর্মিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
টেলিভিশনটি ঈদের পর হাফেজ্জী চ্যারিটেবলের গাজা কার্যক্রম নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি প্রকাশের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই ডকুমেন্টারিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি ফিলিস্তিন টিভির ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারসমৃদ্ধ ইউটিউব চ্যানেল এবং ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ফলোয়ারসমৃদ্ধ ফেসবুক পেজে হাফেজ্জীর কার্যক্রমের লাইভ সম্প্রচার করেছে।
এ বিষয়ে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ বলে, সততা, আমানতদারি এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমদের দিকনির্দেশনায় আমরা আমাদের কাজ পরিচালনা করে যাচ্ছি। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় আমরা বিশ্বের মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই খিদমতে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে চাই। এই অর্জন কেবল একটি সংস্থার সাফল্য নয়; বরং বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে গাজা, সুদান এবং বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক দৃশ্যমান অঙ্গীকার।
গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে যখন নানা আবেগনির্ভর প্রচারণা, ভুয়া পরিসংখ্যান ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, তখন প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ। সংস্থাটি শুরু থেকেই মাঠকেন্দ্রিক, স্বচ্ছ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং বাস্তব কাজ, তথ্যনিষ্ঠ উপস্থাপন ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনআস্থা অর্জন করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা, বিবিসি, মিশরটাইমস এবং ফিলিস্তিন টিভিসহ প্রভাবশালী গণমাধ্যমেও হাফেজ্জী চ্যারিটেবলের মানবিক কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে





